‘আমরা রোবট নই’

৪ আগষ্ট, ২০১৯ ১৯:৪৯  
মানবতার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেছেন, ‘জ্ঞান বড় সম্পদ, চর্চায় বেড়ে যায়। আমাদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে। একসময় আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে অনেক অনেক দূর এগিয়ে যাবো। কিন্তু কখনও মানবতা হারানো যাবে না। আমরা যাই করি, তা হবে মানবতার জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য। রোবটের জন্য নয়। আমরা আমাদের জন্য কাজ করি। আমরা রোবট নই।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্যোগে ‘চাকরির জন্য অনুশীলন কেন্দ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ’ বিষয়ক দিনব্যাপী এক সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও ডেলিগেটদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আরো বলেন, ‘এখন বিজ্ঞান ও শিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযুক্তি ঘটানোর যুগ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেই সমন্বয় ঘটাতে পারছি না। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্পের সংযুক্তি ঘটাতে হবে।’ রোববার (৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই সেমিনারের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, ‘শিল্প ও শিক্ষায়তানের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সংযুক্তি থাকা আমাদের জন্য প্রয়োজনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিছু ধারণা উদ্ভাবন ও কিছু তত্ত্ব বিকশিত করবে। কিন্তু সেগুলোর ব্যবহারিকতা ও প্রযোজ্যতা বাস্তবায়ন করবে শিল্প। তাই বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের মধ্যে সংযুক্তি ঘটানো বাধ্যতামূলক।’

বক্তব্যে চতুর্থ শিল্প-বিপ্লব মোকাবেলায় আমাদের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্সের মতো যুগোপযোগী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার প্রতি জোর দেন উপাচার্য।

তিনি বলেন, বর্তমান যুগে আর্টিফিশিয়াল ইইন্টেলিজেন্স, ইন্টারনেট অফ থিংস, রোবটিক্সের মতো বিষয়গুলোর কোন বিকল্প নেই। তবে একই সঙ্গে আমাদের মানবিক গুণাবলী যেন হারিয়ে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল। অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসাইন, জার্মানির ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বিভূতি রায় ও সিঙ্গাপুর ফেস্টো লিমিটেডের শিক্ষা সেবার ব্যবস্থাপক মি. ফু টেক কুং প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। ড. মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ডেটা সায়েন্সের ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করতে এবং তিনি এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিদেশমুখী না হয়ে তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করার জন্য তরুণদের আহবান জানান।